ঢাবি এলামনাইয়ের বার্ষিক ডিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বেলাল মাহমুদ। ছবি- এনওয়াইভয়েস টুয়েন্টিফোর ডটকম।
এনওয়াইভয়েস টুয়েন্টিফোর ডটকম নিউইয়র্কে ৩১ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান টেরেসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের বার্ষিক ডিনার পার্টিতে সুদূর এই প্রবাসে পারস্পরিক সহযোগিতার দিগন্ত প্রসারিত রেখে মানবিকতায় পরিপূর্ণ একটি নয়া জগত প্রতিষ্ঠার সংকল্প উচ্চারিত হয়। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের জন্যে গঠিত কমিটির আহবায়ক এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি বেলাল মাহমুদের স্বাগত বক্তব্যেও ধ্বনিত হয় , Ô ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। এটি আমাদের আবেগ , ঐতিহ্য , গৌরব এবং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষা দিয়েছে , স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে , দেশ এবং সমাজের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আজকের এই মিলনমেলা আমাদেরকে মানবতার কল্যাণে জাগিয়ে তুলবে , পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে , ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।‘ ঢাবি এলামনাইয়ের বার্ষিক ডিনারে বক্তব্য দেন সাঈদা আকতার লিলি। ছবি- এনওয়াইভয়েস টুয়েন্টিফোর ডটকম।
অডিটরিয়ামে সমবেত সকলকে ভিন্ন এক আমেজে আবিষ্ট করে Ô এলামনাই ডিনার Õ র সঞ্চালক এবং হোস্ট সংগঠনের সেক্রেটারি রুহুল আমিন সরকার কয়েক পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানসূচির শুভ সূচনা ঘটান যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে। এরপর সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্যে সংগঠনের সদ্য – বিদায়ী সভাপতি সাঈদা আক্তার লিলি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা ভার্সিটির স্মৃতির অতলে হারিয়ে গিয়ে উল্লেখ করেন , Ô জীবন – জীবিকার প্রয়োজনে আজ হয়তো আমরা আটলান্টিকের এপাড়সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে – ছিটিয়ে থাকলেও হৃদয়ে সবুজ – শ্যামলিমায় পরিপূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়টি সদা জাগ্রত রয়েছে। সে তাগিদেই আজ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি সপরিবারে। মানবিকতায় পরিপূর্ণ একটি জগতের বাসিন্দা হতে এবং প্রবাস – প্রজন্মকে শেকড়ের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রাখতে |Õ ঢাবি এলামনাইয়ের বার্ষিক ডিনারে সুধীজনের একাংশ। ছবি- এনওয়াইভয়েস টুয়েন্টিফোর ডটকম।
সংগঠনের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি ( ১৯৯৪ ) বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা . চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান প্রাঞ্জল ভাষায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক যুগ আগের স্মৃতি তর্পণকালে তার নিরন্তর সাথী অর্থাৎ এই সংগঠনের সেক্রেটারি জাহাঙ্গির আলমের আত্মার প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। চৌধুরী সারোয়ার উল্লেখ করেন , মাঝেমধ্যেই সাবেক শিক্ষার্থীরা একত্রিত হলে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পথ সুগম হবার সাথে প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে আরো অবদান রাখা সহজ হবে। নৃত্য – গীত , আলাপ – চারিতা , অভিনয়ের মূল পর্বে যাবার আগে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি এম এস আলম প্রমুখ। প্রসঙ্গত : উল্লেখ্য যে , আলো – ঝলমল পরিবেশে অতিথিগণকে অভ্যর্থনা জানান ঢাবি এলামনাইয়ের বার্ষিক এই ডিনারের জন্যে গঠিত কমিটির পক্ষে প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোহাম্মদ হোসেন খান , সাঈদা আকতার লিলি , স্বপন বড় – য়া , এ কে আজাদ তালুকদার , তাজুল ইসলাম , মোল্লা মনিরুজ্জামান এবং বেলাল মাহমুদ ও আজহার আলী খান। ঢাবি এলামনাইয়ের বার্ষিক ডিনারের সঞ্চালকেরা। ছবি- এনওয়াইভয়েস টুয়েন্টিফোর ডটকম।
ডিনারের সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় সান্ত ¦ নুর নেতৃত্বাধীন টিমের ৫ মিনিট স্থায়ী রম্য পরিবেশনা ‘ ভাল্লাগে না ’ । এটি শুরু হয় গানে গানে এবং এক পর্যায়ে অতিথির অনেকে নাচ – গানে একাকার হয়ে পড়েন। শিল্পীর মধ্যে ছিলেন ফাহমিন , ফাতেমা , চিত্রা , সানজিদা , সানু , সুশীল , কাজী প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি ও পাঠে ছিলেন গোলাম মোস্তফা , প্রীতি ও ফারুক। পারিবারিক সমস্যা – সংকট , ভাল – মন্দ ইত্যাদি আলোকে Ô সংসার সমাচার Õ শীর্ষক পর্বে অংশ নেন আরিফ এবং নার্গিস। ঢাবি এলামনাইয়ের কালচারাল টিমের পুরো পরিবেশণার সঞ্চালনা ও পরিচালনায় ছিলেন নুপুর চৌধুরী , গোলাম মোস্তফা , ফাতেমা খান। সাথে ছিলেন রুহুল আমিন সরকার। অতিথি শিল্পী ছিলেন রাজিব ও নীলিমা শশী।